পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিন এর বিরুদ্ধে খেয়া ঘাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নের বগী খেয়াঘাটকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে পচাঁকোরালিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের অভিযোগ, খেয়াঘাট এবং এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, খেয়াঘাট সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে অবৈধভাবে বালু মজুত ও উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমের কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এলাকায় পরিবেশগত সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
এদিকে খেয়াঘাটের যাতায়াত সড়কে ভারী মাহিন্দ্রা গাড়িতে বালু পরিবহনের ফলে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ বরগুনা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
খেয়াঘাট বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বালু পরিবহন ও মজুতের কারণে বাতাসে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ছে, যা ক্রেতাদের বাজারে আসা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে চা, পান, মুদি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন দোকানদার অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাদের বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
এছাড়া জেলে কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন জেলের দাবি, তারা নিয়মিতভাবে প্রাপ্য চাল পান না এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রুহুল আমিনের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকেই এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার চাইলে, তিনি সাংবাদিককে বলে এ বিষয়ে নিউজ করার দরকার নেই,এটা নিয়ে নিউজ না করলে হয় না। আমি আপনার সাথে দেখা করব।
এলাকাবাসীর দাবি, খেয়াঘাট, রাস্তা ও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, খেয়াঘাট, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বালু মজুত ও সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
কালের সময় মিডিয়া লিমিটেড
৮৯ বিজয় নগর, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম শরণি, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট (৫ম তলা)। ঢাকা-১০০০
নিউজঃ news@kalersomoy.news || বিজ্ঞাপণঃ ads@kalersomoy.news
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || kalersomoy.news