মোর মাইয়্যাডারে মইর্যা হালাইছেলে আল্লায় বাঁচাইছে,মুই তালতলীর ডাক্তারের বিচার চাই।
মোর মাইয়্যা তালতলী হাসপাতালের ডাক্তার মাফুজা আক্তার মাইয়্যা হালাইছেলে। আল্লায় বাঁচাইছে। এই রহমের কাম কোন ডাক্তার হরে। পারবে না হ্যারা কেন এ্যামন হরলে? এ্যাহর মোর মাইয়্যারা হাসপাতালে মইর্যা বাচছে। মুই তালতলীর ডাঃ মাহফুজা আক্তারের বিচার চাই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে কান্নাজনিত কন্ঠে এমন কথা বলেছেন তালতলী উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামের প্রসুতি সাবিনা আক্তারের মা রানী বেগম। তিনি আরো বলেন, মোর চেয়ে আর কে দুখি আছে মোর পোলাডা মানষে মইর্যা হালাইছে এমন আবার ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিয়া মাইয়্যাডারে প্রায় মাইয়্যা হালাইছিল। মুই কার কাছে এর বিচার দিমু।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামের হাসান হাওলাদারের অন্তসত্ত্বা স্ত্রী সাবিনা আক্তারকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী তালতলী পপুলার ডায়সনিষ্টিক সেন্টারে ডাঃ মাহফুজা আক্তারের কাছে চিকিৎসা নেন। তিনি তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে নরমাল ডেলিভারীর পরামর্শ দেন। গত রবিবার সকালে ডাক্তারের পরামর্শে স্বজনরা তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহফুজা আক্তার ও তার দুই সহযোগী সেবিকা নিয়ে ১০ ঘন্টা নরমাল ডেলিভেরীর চেষ্টা করেন। ওই সময় ডাক্তার ভুল চিকিৎসা করতে গিয়ে অন্তসত্ত্বা সাবিনার পানি ভেঙ্গে ফেলে জরায়ুর মুখ ফেটে যায় এবং বাচ্চা জরায়ুর মুখ আটকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে এমন অভিযোগ সাবিনার মা রানী বেগম ও শাশুড়ী খাদিজা বেগমের। উপায় না পেয়ে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংঙ্কটজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল প্রেরণ করেন কিন্তু রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিরুপায় হয়ে রোগীর স্বজনরা আমতলী সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিসে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগী এবং বাচ্চার অবস্থা বিবেচনা করেন দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করেন। ওই প্রসুতির এক ছেলে সন্তান প্রসব করেন। রোগীর অবস্থা একটি উন্নতি হলে তাকে ও তার নবজাতককে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছেন। বর্তমানে প্রসুতি সাবিনা ও তার নবজাতক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রসুতির স্বামী হাসান হাওলাদার বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমানে সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিসের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমার স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে আছেন। নইলে স্ত্রী-সন্তান কাউকে বাচানো সম্ভব হতো না। তিনি আরো বলেন, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মাহফুজা আক্তার ও তার সহযোগীরা যা করতে তা মুখে আনতে পারি না। তাদের ভুল চিকিৎসায় কারনে আমার স্ত্রী ও সন্তান মারা যেতো। আমি তাদের এমন কর্মকান্ডের বিচার চাই।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহফুজা আক্তার ভুল চিকিৎসার কথা অস্বীকার করে বলেন, রোগীর জরায়ুতে কোন আঘাত করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগীর স্বজনদের বারণ করলেও তারা আমার কথা না শুনে রোগী নিয়ে গেছেন।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ভুপেন চন্দ্র মন্ডল বলেন, নরমাল ডেলিভেরীতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। যদি হয়ে থাকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালতলী থানার ওসি মোঃ আসাদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
কালের সময় মিডিয়া লিমিটেড
৮৯ বিজয় নগর, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম শরণি, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট (৫ম তলা)। ঢাকা-১০০০
নিউজঃ news@kalersomoy.news || বিজ্ঞাপণঃ ads@kalersomoy.news
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || kalersomoy.news